Header Ads

একুশের বিশেষ সংখ্যা- ২০২৩

 


১। ফরিদুজ্জামান

২। অভিলাষ মাহমুদ

৩।  শ্রীস্বদেশ সাধক সরকার

৪।  জেইনাল আবেদীন চৌধুরী

৫। জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় 

৬।  ড.গৌরী ভট্টাচার্য্য

৭।  রুদ্র সাহাদাৎ

৮। দালান জাহান

৯। কাজী আনিসুল হক

১০। শাহজাহান মোহাম্মদ

১১। সাহিদা রহমান মুন্নী

১২। মোস্তফা হায়দার

১৩। অমিত বড়ুয়া

১৪। মোঃ তৌফিক ভূইয়া রিপন

১৫। মহাজিস মণ্ডল

১৬। শাহাদাত হোসেন

 

 

বাংলা ভাষার জয়

✍️ ফরিদুজ্জামান

 

পদ্মা যমুনা মেঘনার কূলে বাংলা ভাষার জয়

বিদেশী শাসক ছলে বলে কলে যুগে যুগে করে ক্ষয়।

বাঙালি ভায়েরা বাঙালি বোনেরা বাঁচাতে ভাষার মান

এই ব্রত নিয়ে যুগে যুগে দেয় শত প্রাণ বলিদান।

 

মুখ সেলাইয়ে এফোঁড় ওফোঁড় গ্রহণ লাগার কাল

উর্দুর চাপে বাংলা ভাষার বধ্যভূমির হাল।

সবুজ আঁচলে মরুর রুক্ষ মরণ বিষের কণা

ফুল-বাগিচায় উপনিবেশের কাল নাগিনীর ফণা।

 

মায়ের বচন ধরায় পচন উর্দু ভাষার বিষে

বাংলা মাতাকে দাসী বানাবার পাকিস্তানী সে শিসে।

ছাত্র সমাজ গর্জে ওঠায় বুকেতে চালায় গুলি

এমন করেই নিমিষে উড়েছে হাজার মাথার খুলি।

 

রফিক শফিক জব্বারসহ শত শহীদের দান

বুকের রক্তে পতাকা এনেছে এ বিশ্বের সম্মান।

 

পদ্মা যমুনা মেঘনার কূলে বাংলা ভাষার জয়

বিদেশী শাসক ছলে বলে কলে যুগে যুগে করে ক্ষয়।

বাঙালি ভায়েরা বাঙালি বোনেরা  বাঁচাতে ভাষার মান

এই ব্রত নিয়ে যুগে যুগে দেয় শত প্রাণ বলিদান।

 

মুখ সেলাইয়ে এফোড় ওফোড় গ্রহণ লাগার কাল

উর্দুর চাপে বাংলা ভাষার বধ্যভূমির হাল

সবুজ আঁচলে মরুর রুক্ষ মরণ বিষের কণা

ফুল-বাগিচায় উপনিবেশের কাল নাগিনীর ফণা

মায়ের বচন ধরায় পচন উর্দু ভাষার বিষে

 

বাংলা মাতাকে দাসী বানাবার পাকিস্তানী সে শিসে

ছাত্র সমাজ গর্জে ওঠায় বুকেতে চালায় গুলি

এমন করেই নিমিষে উড়েছে হাজার মাথার খুলি।

রফিক শফিক জব্বারসহ শত শহীদের দান

বুকের রক্তে পতাকা এনেছে এ বিশ্বের সম্মান।

 

বাংলা আমার মাতৃভাষা বাংলা আমার জন্মভূমি।

গঙ্গা পদ্মা যাচ্ছে ব’য়ে, যাহার চরণ চুমি।

 

ব্রহ্মপুত্র গেয়ে বেড়ায়, যাহার পূণ্য-গাথা!

সেই-সে আমার জন্মভূমি, সেই-সে আমার মাতা! আমার মায়ের সবুজ আঁচল মাঠে খেলায় দুল!

আমার মায়ের ফুল-বাগানে, ফুটছে কতই ফুল!

শত শত কবি যাহার গেয়ে গেছে গাথা!

সেই-সে আমার জন্মভূমি, সেই-সে আমার মাতা! ..

.................................................. 


অমর একুশে

✍️ শ্রী স্বদেশ  সাধক সরকার

 

মায়ের ভাষা,মাতৃভাষা

বড় আদরের

হাজারো ভাষার মাঝে

বাংলা মোদের

সবার প্রিয় সবার মনের

সব সময়ের~

নানা দেশ নানা ভাষা

নানা  মাতৃভাষা

সম্মান  দাও সবে

 

“মা” যে সবার

সমান ।

ভাষা -র ,সাথে লড়াই বাধে

সময়ে সময়ে

অন্য ভাষা  যখন তখন

যদি বসে চেপে

প্রতিবাদ-প্রতিরোধ  জাগে

ঘরে বাইরে

 

 সে ফসল ফলে পুর্ব পাকিস্তানে

আসামে কাছাড়ে

শহীদের মৃত্যূবরণ সব দেখে

শাসকের চোখ রাঙানিতে~

বীজ হলে গাছ হয়

সবার তা‘ জানা

ক্ষণে ক্ষণে জ্বলে ওঠে

তুষের আগুনে ।

সে তুষ ধিকি ধিকি জ্বলে

শক্তি বৃদ্ধি করে

 একদিন লেলিহান শিখা

 সব ছারখার করে ।

 

 দেখাল সে পথ ইয়াহিয়ার দেশে

  “বাংলাদেশ ” জন্ম নিল

  পৃথিবীর বুকে~নজিরের

 চাবিকাঠি রমনার মাঠে ।

 আজ,তুমি একুশে ফেব্রুয়ারি

 জনমনে পরিচিত ভাষা পরিচয়ে

 বিশ্বের দরবারে নতুন সে ছবি

  মাতৃভাষা দিবস-শহীদ সালাম

 রফিক,জব্বর আরো জানা

  অজানা কত আত্মত্যাগে,

 মায়ের ভালবাসা দেশে দেশে রচি

 সে ছবি আজ ঘরে ঘরে প্রতিবাদী

 সাথী ।

 

  একুশ-তুমি মনের,মননের,চিন্তা

 ও চিন্তনের

 তুমি কথার, তুমি অধিকার,তুমি প্রতিবাদী

 মুখের

 একুশ ,তুমি সাহস,তুমি প্রতীক,তুমি সংহতি

  সম্প্রীতির

 একুশ,তুমি নও বর্ণের, নও ধর্মের নও

 লিঙ্গের, নও কোন জাতের

 একুশ,তুমি সব দেশের,সবার মায়ের সমান

 

 আদরের

 একুশ,তুমি প্রাণের,তুমি আদরের ,তুমি

  কথা বলার স্বাধিকারে —

 তোমাই -শত শত প্রণাম,কুর্ণিশ লহ

 সবার ,আজিকার শুভ

 পূণ্যদিনে ।

..................................................  


স্বপ্নের হাতছানি

✍️ জেইনাল আবেদীন চৌধুরী

 

শহরের কোলাহলে প্রকৃত যে বন্ধুটি হাত বারিয়ে আছে সে হাতটি তুমি দেখতেই পাও না কোলাহল মূখর এই শহরে!

সাদা থানের মাঝে হৃতপিন্ডের রক্ত ক্ষরণের ছোপ ছোপ দাগটা কি তোমার চোখে পড়ে না?

না কি দেখেও না দেখার ভান করে নিজেকে ঝামেলামুক্ত রাখতে চাও!

স্বার্থপরের মত একাএকা ঘুরলে যত শহরই তুমি ঘুরে বেরাবে তুমি সাদা থান পরিহিত লোকই দেখবে।

ক্লান্তিতে ঘর্মাক্ত হয় না শরীর,

ক্লান্তিতে শরীরে নেমে আসে অবষাদ এবং অনুভূতিহীন হয়ে পরে।

যে মানুষটি তোমার ছায়া হয়ে তোমার ক্লান্তির অবষাদ মুছিয়ে দিয়ে আনন্দের বন‍্যায় প্লাবিত করতে চায়, তার পানে তুমি ফিরেও তাকিয়ে দেখো না।

কত যুগ যুগ ধরে তোমার প্রতিক্ষায় তোমাকে ছায়ার মত অনুসরণ করছে।

সে যে তোমাকে চেয়ে নিয়েছে তার,তোমার,আমার,আমাদের সকলের স্রষ্টা যিনি তাঁর কাছ থেকে।

তাই যতই তুমি তাকে উপেক্ষা করতে চেষ্টা করবে ততই তোমার হৃদয় মাঝে প্রতিষ্ঠিত হবে।

চলো না আমরা এই শহরের কোলাহল থেকে ম‍্যাকি সভ‍্যতার নোংরামি থেকে দূরে অকৃত্রিমতার হাতছানি দেওয়া গ্রামের মাটির মানুষের মাঝে মিশে যাই!

যেখানে সন্ধা হলে মন্দিরের পূজার ঘন্টায় মনের প্রশান্তি ফিরে আসে!

মসজিদ থেকে আযান ধ্বনির সুমধুর কন্ঠে মনের ক্লান্তি মুছে এক স্বর্গীয় অনুভূতি এনে দিবে হৃদয় মনে!

সকালে ঘুম ভাংগবে তোমার পাখপাখালির মধুর কুন্জনে!

ঘাসের পাতায় শিশিরের মুক্তা বিন্দু মিষ্টি রোদের ঝিলিকে ঝলমলে হয়ে ওঠবে, তুমি অপলকে বিমোহিত হয়ে মনের অজান্তে বলে ওঠবে অপূর্ব!

এই যে আমার হাতটি শক্ত করে ধরো আমরা ফিরে যাই এই শহর থেকে ঐ স্বপ্ন মাখানো পল্লী গাঁয়,

বাঁশ ঝারে বসে দোয়েল ঘুঘু মনের সুখে যেখানে গান গায়।

গাঁয়ের বধু মল পায়ে কলসী কাঁখে দূর পুকুরে জল আনতে যায়।

রাখালের বাশীর সুরে মনের মাঝে মুগ্ধতায় ভরে যায়।

চলো না বাকী জীবনটা কাটুক মোদের ঐ আধো নির্জনতায়।

যেখানে অকৃত্তিম ভালোবাসা আছে, হৃদয় ছোঁয়া ভালোবাসা আছে।

আর নয় সখী অভিমান, এই নাও ধরো এই হাতখান।।।

..................................................  


মা ও মায়ের ভাষা

✍️ জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

 

ভোর।হালকা রং।অদেখা আলো।শোভা।

পেছনের প্রবলকে চিনি।

আমি ডাকি দিবাকর।

দিবাকর!

 

আলো উজ্জ্বল হয়।

আমি জানি বেনীআসহকলা- র নামাবলি।

সবচেয়ে প্রিয় মায়ের কাছে শেখা শব্দ,

শব্দের সংজ্ঞায় বস্তু চিনেছি,

সে ভাষাকে বলে মাতৃভাষা।

 

আশ্রিত বা আহৃত শব্দগুলিও প্রিয়তায় মোড়া,

পোষা বিড়ালের মতো গা-ঘেঁষা

 

আসলে মায়ের ছোঁয়ায় সবই মধুর মায়া

ভাষায় কি তার ব্যত্যয় হয় ?

..................................................  

 

বাঙালির আশা বাঙালির ভাষা

✍️ ড.গৌরী ভট্টাচার্য্য

 

১৪৪ ধারা জারি হলো আন্দোলন ঠেকাতে,

ঘাতক প্রহরী আমতলায় বন্দুক কাঁধে, হাতে।

স্বেচ্ছাপ্রণোদিত আন্দোলন বাংলা ভাষার দাবী,

কৃষকশ্রমিক, ছাত্রশিক্ষক, ডাক্তার, আইনজীবী।

 

শহরবাসী, গ্রামবাসীর প্রাণের আকুতি,

পূর্ববঙ্গে বাংলা হবে ভাষা ও সংস্কৃতি।

বাঙালির আশা বাঙালির ভাষা একসূত্রে গাঁথা,

সাহিত্যসংস্কৃতি দেশগঠনে ভাষার যথার্থতা।

 

সেদিন বসন্তে আমতলায় বইছে ফাগুন হাওয়া,

ভাষার দাবীতে ছাত্রদের ক্রমে এগিয়ে যাওয়া।

ঋজু শরীরে, হাসিমুখে ছাত্র এগিয়ে যায়,

মুহূর্তেই বজ্রনিনাদে ঘাতক গুলি চালায়।

 

আকাশ বাতাস প্রকম্পিত, প্রাণান্ত হাহাকার,

ঝাঁজরা বক্ষে আর্তনাদ, প্রতিবাদী চিৎকার।

ঢাকা রাজপথ আমতলা রক্তে প্লাবিত,

নিষ্ঠুর এই হত্যাকাণ্ডে বিশ্ব স্তম্ভিত।

 

অশ্রুতে ভাসে গোটা জাতি শোকার্ত মাতাপিতা,

আন্দোলনে উত্তাল হলো বিক্ষুব্ধ জনতা।

চাপের মুখে অবশেষে করলো নতিস্বীকার,

প্রথম বিজয় বাঙালির ভাষার অধিকার।

 

বিশ্ববাসীর ধিক্কার পেলো সেদিনের শাসক,

একুশ স্মরণে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা, পুষ্পস্তবক।

পূর্ণ হলো বাঙালির আশা, পেলাম রাষ্ট্রভাষা,

আত্মদানের প্রাপ্তি মোদের প্রিয় মাতৃভাষা।।

..................................................  

 

অবোধ শিশুর ভাষা

✍️ ড.গৌরী ভট্টাচার্য্য

 

সকল অবোধ শিশুর ভাষার

কিরূপ প্রকাশ হয়?

যে শিশুটির ভাষা ফুটেনি

সেও কথা কয়।

 

একলা ঘরে,আঁধার রাতে

কাঁদে শিশু যেমন,

দিনের আলোয়,সবার সাথে

কাঁদে যখন তখন।

 

ক্ষণে হাসে ক্ষণে কাঁদে

নিদ্রায়, জাগরণে,

সেই তত্ত্ব বুঝতে হয়

সঠিক অনুমানে।

 

হাত নাড়িয়ে, পা দুলিয়ে

কতকি প্রকাশ করে,

এদিক ওদিক তাকিয়ে শিশু

থাকে ভাবান্তরে।

 

হাসিকান্না ছাড়া শিশুর

ভাষা আরতো নাই,

শিশুর ভাষা হাসিকান্না

সকল অবস্থাই।।

..................................................  



মুখোশ ইতিহাস

✍️ রুদ্র সাহাদাৎ

 

মুকুটহীন সম্রাট থালাহীন হাতে ভিক্ষা খুঁজে

মগজহীন বড্ডা মাথা বড্ড আজব সংসার

সবজান্তা ভাব, পেটে খিদে, যায় না পুরান বাজে স্বভাব

 

মাথানষ্ট জীবন নষ্ট কষ্টে কষ্টে হাঁটে চোখ

যেন আব্দুগনি হাইট্টা যায়, ফ্যাকাশে মুখ...

 

জীবন বুঝি না,  বিবর্ণ যৌবন,মুখোশ ইতিহাস।

..................................................  



এবাদত

✍️ দালান জাহান

 

আশ্চর্য রকম পাতা ঝরা এই দিনটাকে

আমরা লাল মাস বলি

অদৃশ্যের ভেতর থেকে তোলে আনি

রক্তরঙা আট ফাল্গুন

আশ্চর্য আমার পূর্ব পুরুষের স্পর্ধা

আমার বুকে ঘুমিয়ে থাকে যার খুন।

বিপ্লবের মতো রক্তাক্ত ছেলেটি

লজ্জা ভাঙা মেরুন মেয়েটি

সেদিন এই শব্দাস্ত্রে কাঁপিয়ে ছিলো

শেকল ভাঙার বিস্ফোরণ জগত

সেই থেকে ভাষা হলো আমার

প্রথম এবং শেষ এবাদত।

..................................................  



ফ্রেরুয়ারী এলে

✍️ রুদ্র সাহাদাৎ

 

শহিদ মিনার নিকটবর্তী হলেই হারানো ভাইয়ের

 ডাক শুনি ডান-বাম

মায়ের কান্নাভেজা মুখমন্ডল ভেসে ওঠে

চোখের সামনেই

দিঘির জলে ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভাঁজ ভাঙ্গে কাঁদে মুখ

 

বাবা ঘুমায় না, মা ঘুমায় না

বোনও কাঁদে ফ্রেরুয়ারী এলে

পেয়ে হারানোর বেদনায়।

 

স্বাধীনতার পঞ্চাশ পেরিয়েও আসে না ভাই

প্রতিবেশীরাও খুঁজে মানিক কই।

 

শহিদ মিনার নিকটবর্তী হলেই হারানো ভাইয়ের

ডাক শুনি ডান বাম

নৈঃশব্দ্যে হেঁটে যায় পা, খাড়া থাকে কান

আমিও খুঁজে ফিরি পূর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিণ

 

মুখের ভিতর,  মগজের ভিতর চিৎকার দিতে থাকি

দাদা, দাদা ও দাদা তুমি কোথায়

আর কতদিন রবে নিরবে অন্তরালে

কতোদিন দেখি না তোমায়।

 

নামাজ ঘরে মা এখনো কাঁদে রাতবিরাতে

এসে দেখে যাও, দেখে যাও, দেখে যাও।

 

ফ্রেরুয়ারী এলেই বাড়ির কারো স্থীর থাকে না চোখ

পেয়ে হারানোর বেদনায়

..................................................  

 


ভুল

✍️ কাজী আনিসুল হক

 

ভুল করে ভুলে যাই রাষ্ট্রের চাওয়া

লাশ আর রক্ত, লাঞ্ছনা পাওয়া

ভুল করে ভুলে যাই শহীদে'র দেশ

পশ্চাৎ দানবিক আজকে স্বদেশ।

 

ক্ষমতা মসনদ রাতারাতি খ্যাতি যশ

রাজনীতি পেশা হলে নেতা হবে বস

 

 

ভুল করে ভুলে যাই সংগ্রাম ইতিহাস

জাতি ভেদ বজ্জাতি যায় করে উপহাস

ভুল করে ভুলে যাই নাগরিক অধিকার

বাবা মায়ের স্বপ্ন বাংলায় স্বাধিকার

 

লুটপাট, গুম-খুন, জুয়া আর মদ_

রাত হলে হুর পাবে যদি থাকে পদ।

 

ভুল করে ভুলে যাই মানবিক আমাকে,

ভুল করে ভুলে যাই ভালোবাসি তোমাকে...

 

পৃথিবীর সকল মানুষকে বর্ণমালার বর্ণিল শুভেচ্ছা আন্তরিক শ্রদ্ধায়,,,,

..................................................  



একুশ এলেই

✍️ শাহজাহান মোহাম্মদ

 

একুশ এলেই ফুল কলিরা

চায় না কোনো ঘ্রাণ

নির্জনে ডুকরে কাঁদে

সাগর নদীর প্রাণ।

 

একুশ এলেই পাখির ঠোঁটে

অমর কবিতা গান

রক্তেরাঙা শিমুল পলাশ

চায় না প্রতিদান।

 

একুশ এলেই শুকনো পাতা

হারায় আপনজন

রক্তে মাখা রাজপথটি

সাক্ষী সারাক্ষণ।

 

একুশ এলেই চোখে ভাসে

শহীদ ভাইয়ের মুখ

মাতৃভাষায় ফুটলো কলি

ভরলো মায়ের বুক।

..................................................  



একুশ চেতনার অঙ্গীকার,,

✍️ সাহিদা রহমান মুন্নী

 

আমার সকল ভাবনা জুড়ে,

কাছে থাকি কিংবা দূরে

গান কবিতা গল্প সুরে,

জীবন থেকে জীবন ঘুরে!

 

পদ্ম জলে স্নিগ্ধ হাসি,

সকল বাঁধন উপচে আসি,

উদার চিত্তে ভালোবাসি,

লক্ষ অজুত রাশি রাশি!

 

রাতের কালোয়  আশার আলো,

একটুতো না অনেক ভালো

মন্দ মুখে আগুন জ্বালো,

যাক হারিয়ে আঁধার কালো !

 

শিশির ভেজা দুব্বা ঘাসে,

ধবল পায়ে নূপুর হাসে!

মন হয়ে যায় উচাটন,

দেশ মাটি আর মায়ের মন !

 

বর্ণমালার মুগ্ধ মায়ায়,

বাংলা মায়ের মুক্ত ছায়ায়,

বাংলা ভাষার সৌরভে,

একুশ হাসে গৌরবে !

 

একুশ মনন একুশ চেতনার অঙ্গীকার,,,,

..................................................  

 


আট ফাগুনের গল্প

✍️ অভিলাষ মাহমুদ

 

আটই ফাগুন এলে যে মা

কান্না করে বেশ,

ভাষার মান রাখতে গিয়ে

পুত্র নিরুদ্দ্যেশ।

 

কালো চশমায় ঢেকে থাকে

বাবার দুটি চোখ,

ছোট বোনটি বুকের ভিতর

পোষে রাখে শোক।

 

জীবন দিয়ে টিকিয়ে রাখলো

মায়ের মুখের ভাষা,

বোন করেছে মিছেমিছি

ভাইকে পাবার আশা।

 

আশায় গেলো কতো যে বছর

আর তো আশা নাই,

বোন যে এখন বুঝে গেছে

ফিরবে না আর ভাই।

..................................................  

 


ভাষার মাসে ভাষাকে দিতে হবে পরিত্রাণ

✍️ মোস্তফা হায়দার

 

আশা -ভালোবাসায় মাতৃভাষার সম্পৃক্ততা থাকবেই

মুখের কথা কাইড়া নিতে কেউ এসো না সামনেই।

দেশের কথা দশের কাছে চিনিয়েছেন যিনি

মাতৃভাষা বাংলা- কবি হাকিমের মাধ্যমেই চিনি।

 

`বঙ্গবাণী' রক্তে আমার জাগছে নিরব বাতায়নে

ঋণ শোধে বাংলা যাপন চলুক বাঙালীর মননে।

বাংলা এখন বিশ্ববাসীর- মাতৃভাষা বিশ্বব্যাপী

নন্দনজোড়ায় খোদার দান এটাতে বাঙালী হ্যাপি!

 

জাতের কাছে জাত থেকে যায় ভাষার ক্বদরে

বাংলায় কথা, বাংলায় হাসে, বর্ণমালার চাদরে।

রক্তের কাছে সব হেরেছে, জয় হয়েছে বাংলাভাষার

সরকারী সব কাগজ পত্রাদি হোক অ আ বর্ণমালার।

 

ভাষার মাসে ভাষাকে দিতে হবে আসল পরিত্রাণ

বর্ণমালার অন্দরে ঝিঁয়ে রাখি বাংলা ভাষার সম্মান।

 .................................................. 



কোন ভাষাতে

✍️ অমিত বড়ুয়া

 

কোন ভাষাতে কথা বলি কোন ভাষাতে গাই

চলার পথে মনের মতো জীবনকে রাঙাই।

 

কোন ভাষাতে নদী চলে পাখিরা গান গায়

ভাটিয়ালির সুরে সুরে মাঝিরা দাঁড় বায়।

 

কোন ভাষাতে বলতে কথা বিলিয়ে দেয় প্রাণ ভাই

অন্ধকারে পথ হারিয়ে পথের দিশা পাই।

 

কোন ভাষাতে মাকে ডাকি কোন ভাষাতে সুখ

খুশির আলোয় ভরে উঠে মন হৃদয় ও বুক।

 

কোন ভাষাতে জীবন গড়ে মুটে মজুর কামলা

সে তো আমার মায়ের ভাষা প্রাণের ভাষা বাংলা।

..................................................  



মায়ের বোল

✍️ মোঃ তৌফিক ভূইয়া রিপন

 

জন্মভূমি বাংলা আমার মাতৃকোল,

মা আমাকে শিখিয়েছেন বাংলা বোল।

মায়ের শেখানো ভাষাতেই বলি কথা,

রক্ত মাংসে মিশে গেছে বোল বাংলা।

 

কেড়ে নিতে মায়ের শেখানো ভাষা,

ফরমান জারী করে সামরিক জান্তা।

দলবদ্ধ হয় বাংলার দামাল ছেলের দল,

শ্লোগানে শ্লোগানে কেঁপে ঢাকার রাজপথ।

 

উনিশশত বায়ান্ন সালের একুশে ফেব্রুয়ারি,

মিছিলে মিছিলে উত্তাল নগরী।

দিশেহারা হয় পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী,

হানাদার বাহিনী মিছিলে চালায় গুলি।

 

সালাম বরকত রফিক জব্বার লুটিয়ে পড়েন রাজপথে,

তরতাজা যুবকদ্বয়ের জীবন চলে গেলো অকালে।

ইতিহাসের স্বর্ণালি পাতায় আমরা সেই বীরের জাতি,

মায়ের শিখিয়ে দেয়া বোল রক্ষার্থে যুদ্ধ করি।

 

বঙ্গবন্ধু পনেরো ফেব্রুয়ারী একাত্তর বলেছিলেন বাংলা একাডেমিতে,

আমার দল ক্ষমতায় এলে বাংলা চালু হবে অফিস আদালতে।

দল ক্ষমতায় হয়নি আজও সে কথাটির বাস্তবায়ন,

ভাষা বাস্তবায়নে হাইকোর্টের আছে রায় করিনা যথাযথ মূল্যায়ন।

 

একুশ আর পহেলা বৈশাখ এলে বাংলার কদর বাড়ে,

যাদের জন্য বাংলায় কথা বলে তাদের খোঁজ ক'জনা রাখে?

বিভীষিকাময় রক্ত রাঙ্গানো সেই দিন,

একুশ এলেই মনে পড়ে জাতি বিনম্রচিত্তে করে স্মরণ।

 .................................................. 



বাংলা ভাষা

✍️ মহাজিস মণ্ডল

 

একটা ভাষা শপথ যেন

লাখো মানুষের আশা

রক্ত দিয়ে বুঝিয়ে দিলো

অঙ্গীকারের ভাষা

রফিক সালাম বরকত

আরও কত বীর হলো শহীদ

আজ একুশে শত কুর্নিশে

শ্রদ্ধায় এবং গর্বে হই মোহিত

 .................................................. 



"হে একুশ মোরা তোমার কাছে ঋণী"

✍️ শাহাদাত হোসেন

 

হে একুশ-

তুমি এসেছিলে বীরত্বের বেশে

তুমি এসেছিলে সংগ্রাম পুষে,

তুমি হয়েছিলে পৃথিবীর ইতিহাস

তুমি হয়েছিলে স্বপ্নমাখা চাষ!

 

হে একুশ-

তুমি এসেছিলে তেজদীপ্ততায়

তুমি এসেছিলে সংগ্রামী ভাষায়,

তুমি দিয়েছিলে ভাষার জন্য প্রাণ

তুমি রেখেছিলে বাংলা ভাষার মান !

 

হে একুশ-

তুমি সংগ্রামী এক পথ

বুকের ভেতর তীব্রক্ষোভে টেনেছিলে রথ

ভাষার জন্য দিয়েছিলে বুকের রক্তগুলি

তাই তো মোরা স্বাধীনভাবে কথাটুকু বলি !

 

বাংলা মোদের মায়ের ভাষা

বাংলা মোদের প্রাণ

একুশ তুমি রেখেছিলে

এই ভাষার'ই মান!

একুশ তুমি ভাষা-শহীদদের

রক্তমাখা দিন'ই

একুশ তোমার কাছে মোরা

থাকছি অনেক ঋণী!

..................................................  



আমাদের  একুশ

 ✍️ রুবী  শামসুন নাহার

 

 আমাদের  ছোট  ভাইয়ের  জন্মদিন  ছিলো  ২১ শে  ফেব্রুয়ারী।

 জন্মদিন  পালন নয়

 বরং আগের  দিন কালো ব্যাজ করা বাবার আলপিনের কৌটা থেকে পিন বের করে নেয়া

সকালে  পাড়ার কোন বাগান থেকে দুটো ফুল তোলা যাবে  ভাবতাম -

 

 খোলা পায়ে রাস্তায়  হাটা যাবে ভাবতাম।

 খুব  ভোরে হারমোনিয়াম  গলায় বেধে   গান করতে করতে আশে পাশের

 পাড়ার মেয়েরা  প্রভাতফেরির গানগাইতে প্রভাত ফেরির গান করতে  করতে প্রধান সড়ক  ধরে হাঁটতো।

 সে সময়

 .................................................. 



বায়ান্নোর ওই একুশ তারিখ

✍️ আবু ইউসুফ সুমন

 

বাংলা ভাষার জন্য ওরা

মিছিল করে বের

বায়ান্নোর ওই একুশ তারিখ

দুপুর একুশের।

 

সেই মিছিলে হামলা করে

পাক পশুদের দল

কাঁদুনে গ্যাস আর লাঠিচার্জ

চললো অবিরল।

 

কিন্তু শেষে ছুড়লে পুলিশ

অগণিত গুলি

জীবন হারায় সালাম, রফিক

কেউবা মাথার খুলি!

 

এমন কঠিন আত্মত্যাগের

সম্মানিত ভাষা

অবজ্ঞা নয় করবো কদর

থাকুক এ প্রত্যাশা!

 

গানের পাখি বাংলা শুনে

কণ্ঠে তোলে সুর

আড়াল থেকে হাসছে দেখে

শফিক, মতিউর।

..................................................  



"ঘুনে ধরা সমাজ"

✍️ মোঃ নূরুল ইসলাম।

  

মিথ‍্যার বেড়াজালে বন্দি সমাজ,সত‍্যের সাময়িক পরাজয়ে উৎফুল্লহ ভন্ডের দল।

 

ধর্মের লেবাসধারীরা নিজের কর্ম সিদ্ধির  জন‍্য গড়ে তোলে নিজেস্ব কিছু জনবল।

 

ঘুনেধরা সমাজে মুখোশধারী সমাজপতিরা আজ মুখ লুকিয়েছে মুখোশের আড়ালে!

 

নীতিনির্ধারকরা এখন দুর্নীতিবাজ আর সৎ মানুষেরা চোখ বুঝে আছে অন্ধকারে।

 

বিসৃঙ্খলা সমাজ ব‍্যবস্থা আর শৃংখলাহীন জীবন কেবল অশান্তির উৎস হতে পারে।

 

বিকারগ্রস্ত চিন্তা চেতনা মনুষ্যত্ববোধ লোপ পেয়েছে বলে সমাজটা আজ গুমরে মরে!

 

জেগে উঠতে হবে তরুনদের আরেকবার এসমাজকে পরিশুদ্ধ করতে হবে বার বার।

 

দুর্নীতিবাজ ঘুষখোরদের তাড়াতে হবে এবার,দেশর সম্মান তুলে ধরতে হবে সবার উপর।

..................................................  

 


একুশরে_পঙক্তিমালা

✍️ লিয়াকত জোয়ার্দার

 

একুশ এলেই ফাগুন আসে

শিমুল পলাশ বনে

একুশ এলেই ভাষার কথা

স্বপন জাগায় মনে।

 

একুশ এলেই সালাম শফিক

বরকত জব্বার আসে

একুশ এলেই রক্তমাখা

কোর্তা চোখে ভাসে।

 

একুশ এলেই প্রাণের বীণা

কণ্ঠে ঝরায় গান

একুশ আমার মুক্তিসেনা

দৃপ্ত অনির্বাণ।

 

একুশ আমার আগুনঝরা

ফাগুন-দিনের গান

একুশ আমার পলাশ বনে

পাখির কলতান।

 

একুশ এলেই মায়ের চোখে

হঠাৎ ডাকে বান

একুশ এলেই কণ্ঠে ঝরে

গান যে অফুরান।

 

একুশ আমায় ভাবতে শেখায়

ভুলতে শেখায় শোক

ভাষার মেলায় একুশ সেরা

গর্বে ভরে বুক।

..................................................  

  


একুশ এবং বহুবিধ ভাবনা

✍️ শফিকুল ইসলাম সোহাগ

 

ফেব্রুয়ারি এলে সহসা জেগে যায় বাউলিয়ানা

মাটির বুকে অতিশয় বিলি কাটে সৃষ্টির বীজ

সবুজ পালকে জাগৃতি আনে ,

বহুবিধ বর্ণের নেশাতুর  বন্ধনা ।

 

অনিশ্চিত আলোহীন পথে

বিষাদের কুটিল অবাধ্যরাও-জাগে মৌবনে

 

ডানাভাঙা পাখিরাও তৃপ্ত হয় , প্রকৃতির শান্ত জলের ঢেউয়ে

সমস্ত আকাশ সাজে--  বর্ণীল ছুঁয়ায়

বহুবর্ণের কথার ঝুড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরে সৃষ্টির ফেরিওআলা

চোখে ভেসে ওঠে অসংখ্য প্রণোদনা আর

সবুজাভ রোদের চিহ্ন

 

একুশে এক সাথে গেয়ে উঠি-ছায়াময় জীবনের গান ।



 

==০==

 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.