Header Ads

লিমেরিক- আসলাম প্রধান

 

 


যৌবনের বল

 

দৃঢ়চিত্তে ঝড়ের সাথে লড়ো

লড়াই করে বীরের মতো মরো!

বাতাস দেখে কাঁপে যদি বুক

তবে তুমি ভয়ার্ত শামুক-

জলদি করে রাস্তা থেকে সরো !

 

 


অর্থপূর্ণ পঙক্তি

 

অল্প কথায় অনেক কথা

কোনো কথাই নয় অযথা !

শব্দ সব-ই ভারী

অমূল্য, দরকারি-

প্রকাশ করে যথার্থতা ।

 


ঠসা

     আসলাম প্রধান

 

মিছা কতা শুনতে শুনতে কান হোছে মোর ঠসা-

টিপি'র মোদে নাটক করে খাল-পাগারের মশা

আউলাঝাউলা কয়-কী, যা-তা-

বোজোম-না তার কাল্লামাতা !

কোদ্দে মারোম মশার গালোত ইমোট দিয়া ঘষা !

 

শব্দার্থঃ

টিপি>টেলিভিশন, আউলাঝাউলা>এলোমেলো,বোজোম-না>বুঝতে পারি না, কাল্লামাতা>মাথামুণ্ডু, খাল-পাগার>ডোবা-নর্দমা, কোদ্দে>রাগে, মারোম>মারি, গালোত>গালে, ইমোট>রিমোট]

 

  

ক্লাসের পড়া

 

আমার যাঁরা স্যার

দেবেন উপহার-

ছড়া প'ড়ে

অংক ক'রে

ধরেছি গ্রামার !

২

পড়া সব-ই শেষ

মনটা কী-যে ফ্রেশ

বাড়ি যাব,

গিয়ে খাব

মুরি ও পায়েস !

 

  

বই

 

এত্ত মোটা বই

পড়ার সময় কই ?

একটু নেড়ে

নাস্তা সেরে

অফিসমুখী হই !

২

খুব বড় রচনা-

নেই শিক্ষার কণা !

ঠাট্টাছলে

লোকে বলে

বই না, আবর্জনা ?

৩

ছোট্ট করে লিখি

পাঠক ধরা শিখি।

সবার হাতে

বই পাঠাতে

অল্পদামে বিকি ।

 

 

কোয়ারেন্টাইন

 

মানছে না-যে কোয়ারেন্টাইন

বিশেষ পরিস্থিতি-আইন !

তাকে ধরুন,

প্রয়োগ করুন

উপযুক্ত সাজা, ফাইন ।

 

নিজের ঢোল


আমার জেলায় আমিই সেরা, সমান কেহ নাই রে

বন্ধুরা কয়, দোস্ত তুমি যাওনা জেলার বাইরে-

দেখবে তোমায় কজন চেনে,

তোমার পণ্য কজন কেনে ?

ঠিক কথা তো ! বিষয়টা-যে ভাবার মতো ভাই রে !

 

 নিন্দুক

 

বিশুদ্ধ প্রশংসা'টাকে বলছ খাঁটি 'তেল'

শুনে সে প্রশংসাকারী হলো বেআক্কেল !

তুমি যে নিন্দুক ভাই

কোনোরূপ সন্ধ নাই

বাক্যবাণে করতে পারো ভদ্রকে ঘায়েল।

 


পরিশ্রমী

 

ওরে বাপ রে বাপ

কত্ত দৌড়ঝাপ !

কালকে রাতে

ঠাকুরগাঁ'তে

আজকে সে টেকনাফ !

 

জনতার ধাক্কা

 

একটা কথা বলছি শোনো,পাক্কা-

রাখছ যারা বন্ধ, গাড়ির চাক্কা,

আমজনতা ক্ষেপলে,পরে

পড়বে কিন্তু ভীষণ ঝড়ে,

সামাল দিতে পারবে নাকো ধাক্কা !

 

 

পিয়াজ আসিতেছে

 

গিন্নি তুমি থাকিও না

অপেক্ষা করিয়া

পিয়াজ আসিবে দ্রুত

বিমানে চড়িয়া

কথাবার্তা কম কও-

মশল্লা মাখায়ে লও

হাঁড়িতে ওঠাও গোস্ত

কালেমা পড়িয়া ।

 

পেঁয়াজ বিরহ

         

হায়-রে পেঁয়াজ, হায়-রে পেঁয়াজ

ঝাঁজ কী রকম বুঝতেছি আজ !

রান্না ঘরে

কান্না করে

লবন-হলুদ-মরিচ, ঝি-আজ ।

 

অসময়ের বৃষ্টি

            

সান্ধ্যরাতে ফাঁকা মাঠে হাঁটতেছি ফিটফাট-

নিজের কাছে নিজেকে বেশ লাগছিল স্মার্ট !

এমন সময় ছিঁড়ল শিকে-

বর্ষা নামে এ-কার্তিকে !

বৃষ্টি-কাদায় ভিজিয়ে দেয় 'নবাবী'প্যান্ট-সার্ট !

 

 

অন্ত্যমিল

         

ছড়াতে দেই এমনভাবে অন্ত্যমিল

পড়তে গিয়ে পাঠককুলের দন্ত ঢিল !

চোখ পাকিয়ে, ধমক দিয়ে,

কথার পিঠে চড় বসিয়ে-

কার সাথে কার করিয়ে দেই ছন্দ মিল!

 


চালাক খদ্দের

             

রাতের বেলা অন্ধকারে মুরগিওয়ালা, ঠক-

দেশিমোরগ বলে দিল পাকিস্তানী কক !

উচিতমতো দাম নিয়েছে

তবুও সে ঠকিয়েছে!

এত চালাক, হয়ে গেলাম বোকা- আহাম্মক!

 

 

মাথার পোকা

           

আমরা যারা ক্যাবলা, বোকা-

মাথার ভেতর ঢুকলে পোকা

ভালো কথা

ঠিক বারতা

পেলেও লাগে খটকা, ধোকা- !

 

বড় মশারি

          

দেশটা দিলে মশারিতে ঢেকে

বাঁচত লোকে মশার কামড় থেকে!

পরামর্শ না-রে বেটা-

মনের দুঃখে বলি এটা,

কানের কাছে ওদের দাপট দেখে!

 

 

সর্বনাশার সর্বনাশ

                

সর্বনাশা পদ্মা নদী, তোমার এবার সর্বনাশ-

দেখতে কী পাও দুকূল ভরা কত্ত লোহা, কত্ত বাঁশ?

সবাই মিলে ধরছে চেপে-

ওঠে না কি বুকটা কেঁপে?

বোঝো কিনা গলায় তোমার আস্তেআস্তে দিচ্ছে ফাঁস?

 

 

কাতিমাইসা বান

 

অসোমে অঁই মরার দ্যাওয়া কোনঠে থাকি আ'লো

নামাজমিন খায়াখুয়া ভিটার নাগাল পা'লো !

সোগ বেছনের কাছলা খায়া-

মুরি দিকি দেকলো চায়া!

কাতিমাসোত্ ডবগা দিয়া ঠাকরি কালাই খা'লো !

 

ভাবার্থ : কোত্থেকে অসময়ে টানা বর্ষণ এসে নীচুজমির ফসল ডুবিয়ে উঁচুজমিতে হানা দিল, সমস্ত বীজতলা নষ্ট করল ! অত:পর গরীব কৃষকের সামান্য জমিটুকুর মাসকলইয়ের ক্ষেতটুকুও ডুবিয়ে দিল !

কার্তিক মাসের অকাল বন্যায় আক্ষেপে সে-কথাই বলছেন গরীব কৃষক!

 

 

জাকাতের মাল

 

বান এসে চারপাশে পানি উত্তাল

পাড় ভেঙে পুকুরের কী করুণ হাল!

মাছগুলো ভেসে ভেসে

আনন্দে হেসে হেসে

খাল-বিলে গিয়ে আজ জাকাতের মাল!

 


ত্যাড়া

 

লোকটা ভীষণ ত্যাড়া

মুখেতে নেই ব্যাড়া !

হরহামেশে,

না-বুঝে সে

ভ্যা-ভ্যা করে- ভ্যাড়া !

 

 

দ্রুতগামী

 

ঢাকা ছাড়ি

খুলনা পাড়ি-

এলেন

গেলেন

তাড়াতাড়ি!

 

 

গরুখেকো

 

ঢাকার মানুষ বেকায়দায়-

চড়াদামে গরু-ই খায় !

বুড়ি-বুড়া

সব, গরুরা-

কাবাব হতে ঢাকায় আয় !

 

 

চতুর

 

আসল কথায় দিলে টান

শুনতে পায় না ওদের কান !

চুপটি করে

থাকে সরে-

করে তখন অন্য ভান !

 


বানভাসি

 

নাও'ত চড়ি গাঁও'ত যাও

বানের পানিত্ ধুইও গাও !

পাল্যা-হাঁড়ি,

আন্দাবারি-

শিকাত্ তুলি, বাতাস খাও !

 

 

বানভাসা ঘাটা

 

এমন ভাঙা ভাঙছে ঘাটা, পুলের দখিনমুরাত্-

ক্যাংকরি মুই পার হম্ বাহে, যায় ভিজা মোর উরাত্ !

দশট্যাকা চায় নাও ভাড়া-

তাই শুনা মোর কাম সারা!

দুকনা ট্যাকাত্ পার হনু বা'- বানুর ব্যাটার ভুরাত্ !

 

(অর্থ : বন্যার পানিতে ব্রীজের দক্ষিণ পাশে রাস্তা এমনভাবে ভেঙেছে যে, পার হতে গেলে উরু পর্যন্ত ভিজে যাবে । নৌকায় পার হতে গেলে দশ টাকা লাগে! তাই, গরীব পথচারী বানুর ছেলের ভেলাতে দুইটাকা দিয়ে পার হয়েছে! )

 

যৌবনের বল

.

দৃঢ়চিত্তে ঝড়ের সাথে লড়ো

লড়াই করে বীরের মতো মরো!

বাতাস দেখে কাঁপে যদি বুক

তবে তুমি ভয়ার্ত শামুক-

জলদি করে রাস্তা থেকে সরো !

 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.